গোলাপগঞ্জে সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর


গোলাপগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও কানাডা প্রবাসী মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।


শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হাজীপুর গ্রামে অবস্থিত মাহবুবুর রহমানের নিজ বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। 


ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন মো: আবুল কালামের নেতৃত্বে একদল লোক বাড়িতে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা বাড়ির গেট, দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ সময় বাড়িতে অবস্থানরত স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় মাহবুবুর রহমান কানাডায় অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী মোট তিনজন প্রার্থী ছিলেন— মাহবুবুর রহমান, মামুনুর রশিদ মামুন এবং মোঃ আবুল কালাম।


চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব ছিল ফুলবাড়ী ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডের মোট ২৭ জন ভোটারের উপর। প্রতিটি ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদক গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদান করেন। সেই ভোটাভুটিতে মাহবুবুর রহমান সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন লাভ করেন। পরবর্তীতে উপজেলা বিএনপি তাকে দলীয়ভাবে ধানের শীষ প্রতীকের চূড়ান্ত চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।


প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর মামুনুর রশিদ মামুন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেও মোঃ আবুল কালাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল হানিফ খান নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।


নির্বাচনে মাহবুবুর রহমান ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হানিফ খান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ আবুল কালামের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।


পরবর্তীতে ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রায় ২০ দিন আগে মাহবুবুর রহমানকে তার নিজ বাড়ির সামনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি কিছুদিন কারাভোগের পর মুক্তি লাভ করেন। জেল থেকে মুক্ত হওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।


মাহবুবুর রহমানের আওয়ামী লীগে যোগদানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশ তার বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সাবেক প্রতিদ্বন্দ্বী মামুনুর রশিদ মামুন ও মোঃ আবুল কালামসহ অনেক বিএনপি নেতা-কর্মী অভিযোগ করেন যে, তিনি দল পরিবর্তনের মাধ্যমে বিএনপির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।


পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর মামুনুর রশিদ মামুন, মোঃ আবুল কালাম এবং তাদের সমর্থিত অসংখ্য বিএনপি নেতা-কর্মী মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।

 

ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী কবির আহমদ বলেন, “আমি নিজ চোখে দেখেছি একদল লোক মাহবুবুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। তারা বাড়ির বিভিন্ন অংশে হামলা করে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এমন ঘটনা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেছে। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চাই।”


আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রেজাউল করিম আবু সুফিয়ান বলেন, “হামলার সময় আমি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলাম। কয়েকজনকে বাড়ির গেট ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করতে দেখেছি। এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা।”


ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।


এ বিষয়ে অভিযুক্ত মামুনুর রশিদ মামুন ও মোহাম্মদ আবুল কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে ফোন রিসিভ করেননি,যার জন্য তার কোন বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। 


গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মনিরুজ্জামান মোল্যার কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি বারবার এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

Post a Comment

أحدث أقدم
Sylhet Natun Barta 24